বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের অধিকার রক্ষায় চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী লিং জি। এক গোলটেবিল বৈঠকে রোববার তিনি এ আশ্বাস দেন। সেখানে টেসলা ও জিই হেলথকেয়ারসহ চীনে মার্কিন বিনিয়োগে পরিচালিত ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খবর রয়টার্স।
বৈঠকে লিং জি বলেন, ‘চীন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আদর্শ, নিরাপদ ও প্রতিশ্রুতিশীল গন্তব্য ছিল, আছে এবং থাকবে।’
এ সময় বিদেশী প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন চীনের উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী।
লিং জিকে উদ্ধৃত করে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের সামনে থাকা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করবে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক-সংক্রান্ত চলমান বিরোধের মূল হোতা বলে অভিহিত করেছেন লিং জি। তিনি বলেন, ‘চীনসহ নিজেদের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অন্যায্য শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী লিং জির মন্তব্য থেকে বোঝা যায়—সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির পরও কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নয় দেশটি। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও দেশটিতে থাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন লিং জি।
এদিকে বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। গত মাসে চীনের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আলোচনায় তিনি বলেন, ‘চীনের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে তিন কোটির বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’